অবশ্যই- কেন ওরা ঘুর্ণিঝড়ের নাম মানুষের নামে রাখবে না বলো? তুমি তো জানো, তাও বলছি। প্যাতপ্যাতা বৃষ্টিতে ছাতা উলটে গেলে আমার আজও ওর কথা মনে পড়ে- যাকে বলেছিলাম ঢাকা শহরে কখনও ঘুর্ণিঝড় হয় না।
কি করে হবে? এত এত বাড়িঘর দেওয়ালের বাঁধা ফুরে কি করে হাওয়া আসবে ইনানি বিচ থেকে পলাশী? কিন্তু এই বোরিং ঢাকা শহরে গুমোট মেঘ আর প্যাতপ্যাতা বৃষ্টিতো সবসময়ই হয়। তা আমি ভুলে গেলাম কি করে? চোখের পাপড়ি, আই ফ্লোটার আর সিলিং ফ্যানের ঘরঘর শব্দ ওদের কথা আর কারই বা মনে থাকে বলো?
যখন এই বোরিং ঢাকা শহরে প্যাতপ্যাতা বৃষ্টি হয় আমার মনে পড়ে আলকাতরা দেওয়া পুরনো টিন বরাবর বসানো প্লাস্টিকের বালতি, মগ বা এলুমিনামের কৌটা- যারা চিনে চাইনিজ ওয়াটার টর্চার। আর মনে পড়ে এক ছাতার নিচে বলা ন্যাকা কথাবার্তা। যে শব্দ গুচ্ছ নষ্ট করেছি নাম ভুলে যাওয়া প্যাতপ্যাতা বৃষ্টিতে। যখন এই বোরিং ঢাকা শহরে বৃষ্টি হয় আর নতুন ট্রেন্ড মাফিক মিরপুর রোড চলে যায় হাটু পানিতে আমি জানতে পারি ঘুর্ণিঝড়ের নাম কেন মানুষের নামে রাখা হয়।
আমি হলে এই প্যাতপ্যাতা বৃষ্টিরও কোন নাম রাখতাম। খুব কমন কোনো নাম। যাতে অমনোযোগী হয়ে নাম গুলিয়ে ফেলি বারবার৷ বা, খুব কমন কোনো নাম। যাতে এই বোরিং ঢাকা শহরে প্যাতপ্যাতা বৃষ্টি হলে আমার মনে থাকে গল্পের পুরনো আলকাতরা দেওয়া টিন সয়ে যাওয়া চাইনিজ ওয়াটার টর্চার আর এই বোরিং ঢাকা শহর- যেখানে কখনও ঘুর্ণিঝড় হয় না।