অনীক আব্দুল্লাহ আমান

"Rascal with Golden Tears" ● Ceramic sculpture by Carolein Smit
ইউনিমার্ট থেকে ফেরার সময় এক কম বয়সী ভদ্রমহিলা রাস্তায় একজন বুড়ো লোককে দেখতে পায়। লোকটির সাথে ছিল একটি কুকুর। কুকুরটির পরনে ছিল ছেঁড়া জামা। মেয়েটি লোকটিকে গিয়ে জিজ্ঞাস করে, "চাচা, আপনার কি বিকাশ আছে?" তখন লোকটি বলে "বিকাশ আছে। কিন্তু কেন?"
মহিলাটি জানায়, "কুকুরটিকে ভাল জামাকাপড় কিনে দেওয়ার জন্য কিছু পয়সা দিতাম।"
লোকটি উত্তর দেয়, "জামা কাপড়ের জন্য পয়সা দেওয়া লাগবে না। তুমি বরং আমাকে বাড়ি ফেরার উবার ভাড়া বিকাশ করে দাও, আর ওকে ঘরে নিয়ে যাও। একদম পস্তাবে না।"
মেয়েটি কুকুরপ্রেমী দেখে বুড়োর অফারে অবাক হলেও মানা করে না। কুকুরটিকে বাড়িতে নেওয়ার পরে দেখা যায় কুকুরটি বিষণ্ণতায় ভুগছে। এবং প্রায়শই হুহু করে কান্না করে। জাদুর কান্না। চোখ থেকে সে কান্নায় পানির বদলে স্বর্ণ বেরোয়। মেয়েটি কুকুরটির কান্নায় কষ্ট পেলেও ভাবে, এই স্বর্ণের কান্না বাজারে বেচে কুকুরটির জন্য ইউনিমার্ট থেকে অনেক কিছু কেনা যাবে। কিন্তু কি কেনা যায়? বেশি ভাল কিছু কিনে দিলে যদি ও খুশি হয়ে আর না কান্না করে? ওর যদি বিষণ্ণতা সেরে যায়? মেয়েটি অনেক ভেবে কুকুরটিকে আইপ্যাড কিনে দেয়। আর আইপ্যাডের ব্রাইটনেস অনেক বাড়িয়ে রাখে। মেয়েটির ধারণা ছিল, অনেক ব্লু লাইট চোখে পড়লে কুকুরটির চোখ জ্বালা পোড়া করে আরও স্বর্ণরূপী কান্না পড়বে। কিন্তু রিলস দেখে সে আরও বেশি আনন্দ পাবে। তাই কুকুরটির মোট সুখ বৃদ্ধি পাবে। আবার স্বর্ণ কান্নাও বৃদ্ধি পাবে। প্রথম প্রথম কয়দিন মেয়েটির ধারণা মাফিক ঘটনা চললেও- কিছু দিন পর দেখা যায় কুকুরটির কান্না কমে যায়। এরপরে কান্না একেবারেই বন্ধ। না, কুকুরটির বিষণ্ণতা সেরে যায় না। আইপ্যাডের আলোয় কেবল তার চোখ শুকিয়ে যায়। ও ঠিকই কাদে কিন্তু আর স্বর্ণ পরে না। ঘটনা দেখে মেয়েটি বলে, "তাও ভাল। আমি dmd girl। মধ্যবিত্ত হলে কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য ওর চোখ ফুটো করে স্বর্ণ উত্তোলন করতে হত।" এরপরে মেয়েটি কুকুরটির বাকি স্বর্ণ কান্না দিয়ে ভেট থেকে আইড্রপ কিনে আনে। এখন কুকুরটি প্রতি দুই ঘন্টায় স্বর্ণ কান্না করতে পারে।