আমার মেইড-আপ ফেস্টিভিটি আর তা সংক্রান্ত অ্যাক্টিভিটি একেবারেই খারাপ লাগে না। বরং বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়। একই সাথে আমি সেন্স করি, বহুমাত্রিক কালচারাল শিফটের কারণে, কমিউনিটির অনেকে মিলে সেসব ফেস্টিভিটিতে অংশ নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সেসকল ফেস্টিভিটির পরিমানও কমে যাচ্ছে। খুবই সিমপ্লার টার্মসে বলতে গেলে- আগে যেমন আমাদের মিডিয়া কন্সাপশন লিমিটেড ছিল অনেকটা টিভিতে যা দেখাচ্ছে তার উপর। সে ক্ষেত্রে আমাদের অনেকের সেখানেও একটা কমন গ্রাউন্ড ছিল। এখনকার ম্যাস মিডিয়ায় অনেক অপশন থাকার কারণে সবাই মিলে একটা টিভি-শোতে তুমুল ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়না। সেটা ইন ইটসেল্ফ খারাপ কিছু না। কমিউনিটি বিল্ডআপ করার দায়িত্ব ম্যাস-কনজিউমার কালচারের না (বরং তাকে একা সে দায়িত্ব দেওয়াটা ক্ষতিকর)।

তারপরেও, বিশ্বকাপের মতন বড় খেলার আসোরগুলো কিন্তু ঠিকই এখনও সবাইকে একটা কমন গ্রাউন্ডে নিয়ে আসতে পারে। আর এটাকে আমি বেশ উপভোগই করি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রভাবে হওয়া সোশাল মিডিয়া এক্সপ্রেশোনগুলো। আট-দশ বছর আগে বাংলাদেশ যখন খেলা না জিতে খালি হৃদয় জিতত তখন সবার আবেগের জায়গা থেকে এক্সপ্রেশনগুলো একরকম ছিল। (আমিও তখন ছোট ছিলাম, আমার দেখার চোখ অন্যরকম ছিল।) বাংলাদেশের ক্রিকেট সে জায়গা থেকে আর উন্নত হয়নি। এই আসোরের পরে সেটা আরও অনুন্নত হয়ে গেছে বললেও কেউ অস্বীকার করার কথা না। কিন্তু এদেশে ক্রিকেট খেলার জনপ্রিয়তার কারণে, অনেক হিসাবে আনওয়ান্টেড হলেও, এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মাঠে ও তার বাহিরের পারফর্মেন্স ভয়াবহ এন্টারটেইনমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে। এস্পেশালি তার প্রতি আমাদের সোশাল মিডিয়া এক্সপ্রেশন। একে আমি উপভোগ করলেও, সেটা সত্যি বলতে ক্ষণস্থায়ী। একটা কৌতুকের পাঞ্চলাইনের মতন, একটা জীবনের শেষ প্রান্তে চলে আসা নক্ষত্রের মতন- এইটা তাদের দেওয়া ক্ষণস্থায়ী এন্টারটেইনমেন্টের পিক। বাংলাদেশ হারার পরেও আমরা যারা এন্টারটেইন্ড হচ্ছি, সেটা কমিকালি মানায় নেওয়ার জন্যই হোক বা অন্য যেকোনো হেলদি-আনহেলদি কারণেই হোক, আমরা এন্টারটেইন্ড হচ্ছি কারণ আমরা কেউ কেউ এখনও তাদের উপর এক্সপেক্টেশন রাখি। বা একসময় রাখতাম। কিন্তু এরকম কমিকালি ডিল করবার, একটা লিমিট আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি কারোই এক্সপেকটেশন না থাকলে সত্যি বলতে বাংলাদেশের হারকে কমিকালি ডিল করার দরকার হবে না। সে ক্ষেত্রে যত আনওয়ান্টেড ভাবেই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট যেভাবে আমাদের কমিউনিটিকে একটা কমন প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছিল, সেটা অস্তিত্ব হারাবে। দেশের হাজারো আর্থসামাজিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে জনতার একটা সামান্য আফিম হারানো নিয়ে কান্নাকাটি করা হাস্যকর। কিন্তু সত্যি বলতে একটা হেলদি সোসাইটিতে কোনো কালেকটিভ অ্যাক্টিভিটিকেই আমার প্রথমত আফিম বলে সম্বোধন করার কথা না।